অনলাইনে টাকা ইনকাম করার সহজ উপায় এফিলিয়েট মারকেটিং গাইডলাইন ও যেভাবে শুরু করবেন

অনলাইনে টাকা ইনকাম করার অনেক উপায় আছে তার মধ্যে সব থেকে সহজ ও দীর্ঘ মেয়াদি আয়ের উপায় হচ্ছে এফিলিয়েট মারকেটিং করা। 

এখন প্রশ্ন হচ্ছে -

এফিলিয়েট মারকেটিং কাকে বলে এবং এটা কি  ?

এফিলিয়েট মারকেটিং এর জন্য কি কি লাগে?  

কিভাবে এফিলিয়েট মারকেটিং এ উপার্জিত টাকা নিজের একাউন্ট এ নিয়ে আসবেন ?

কার জন্যে এফিলিয়েট মারকেটিং করবেন?

কিভাবে এফিলিয়েট মারকেটিং করবেন?

এফিলিয়েট মারকেটিং কি  :

এটা হচ্ছে এমন একটা প্রক্রিয়া যার মাধ্যমে আপনি কোন কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষ হয়ে কোন পন্য বা সেবা তার সম্ভাব্য ক্রেতার নিকট যদি আপনি বিক্রয় করাতে পারেন তাহলে  তাকেই Affiliate Marketing বলে। এর জন্য উক্ত কোম্পানি আপনাকে আপনার এফিলিয়েট একাউন্টটে তার প্রত্যেকটা পন্যের একটা করে ইউনিক লিংক দিবে এবং আপনাকে উক্ত লিংক এর প্রচারনা চালাতে হবে। প্রচারনা চালানোর ফলে কেউ উক্ত লিঙ্ক এ ক্লিক করে করে তার মানে উক্ত পন্য বা সেবার বিষয়টি ক্রেতা প্রথমে আপনার মাধ্যমে জেনে উক্ত পন্য ক্রয় বা সেবা গ্রহন করেছে  এ জন্য কোম্পানি বা প্রতিষ্ঠান্টি আপনাকেও এর জন্যে একটা সন্মানি দিবে। এটা একদম স্বচ্ছ, অটোমেটিক সফটওয়্যার নিয়ন্ত্রিত ও নিরাপদ কোন বিনিয়োগ ছাড়াই ।

শুধু সোশাল মিডিয়ায় এই লিংক গুলা ছরিয়েই প্রতি মাসে আপনি অনেক টাকা উপার্জন করতে পারেন।

 

এফিলিয়েট মারকেটিং এর  জন্য কি কি লাগে?

এর জন্য মাত্র কয়েকটি জিনিস লাগে এবং সেগুলা একটা আরেকটার সাথে ওতপ্রোত ভাবে জড়িত। সেগুলা হছে-

১। ধৈর্য

২। একটি যেকোন ব্যাংকের ব্যাংক একাউন্ট( বিকাশ/রকেট/নগদ চলবে না)

৩। পেয়নিয়ার একাউন্ট

৪। ল্যাপটপ

৫। মোবাইল

৬। Affiliate Marketing একাউন্ট

যেভাবে এফিলিয়েট মারকেটিং করে উপার্জিত টাকা নিজের একাউন্ট এ নিয়ে আসবেনঃ

Affiliate Marketing করতে সবার আগে যা লাগে তা হচ্ছে আপনার একটা ইন্টারন্যাশনাল  ব্যাংক (পেয়ওনিয়ার) একাউন্ট  ও একটি দেশি বৈধ(নিজের/বাবা/মা যে কারো ) ব্যাংক একাউন্ট থাকতে হবে। পেয়ওনিয়ার তৈরী করা খুব ই সহজ। এর জন্য পেয়ওনিয়ার এর ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার ভোটার আইডি টা সামনে নিয়ে ১০০% সঠিক তথ্য দিয়ে মাত্র ১০ মিনিটে এই একাউন্টটি তৈরী করতে পারেন যেভাবে আপনি আপনার ফেসবুক একাউন্ট খুলেছেন। এরপর সেটিংস>ভেরিফিকেশন সেন্টার এ ক্লিক করে আপনার ভোটার আইডি ২ পাশের ছবি তুলে সাবমিট করবেন । এরপর সেটিংস>ব্যাংক একাউন্ট এ ক্লিক করলে একেক করে ব্যাংক এর নাম , একাউন্ট কারির নাম, ব্রাঞ্চ, একাউন্ট নাম্বার ১০০% ভাবে দিবেন। সাবমিট করার ৭২ ঘন্টার মধ্যে পেয়োনিয়ার আপনাকে আপনার ইমেইলে আপনার পেয়োনিয়ার একাউন্ট ভেরিফিকেশন এর বিষয়টি নিশ্চিত করবে। আর তখন এ আপনি হয়ে যাবেন একজন ইন্টারন্যাশনাল ব্যাংক একাউন্টের মালিক।

এখন হয়ত আপনার মনে প্রশ্ন জন্মেছে পেয়ওনিয়ার একাউন্ট এর প্রয়োনীয়তা কি?

এটার প্রয়োজনীয়তা অনেক। আপনি যার/যাদের জন্য কাজ করবেন তারা সকলেই আপনার পেয়োনিয়ার একাউন্টে  আপনার উপার্জিত $ (ডলার) পরিশোধ করবে। এরপর উক্ত $(ডলার) আপনি আপনার পেয়োনিয়ার একাউন্টে সাইন ইন করে আপনার লোকাল যে ব্যাংক একাউন্টটি যোগ করেছেন সেটায় ট্রান্সফার করলে ৪৮ ঘন্টার মধ্যে আপনার ব্যাংক একাউন্টে টাকা চলে আসবে।

 

 ঊল্লেখ্য আপনি যদি রেফারেন্স লিংক থেকে পেয়ওনিয়ার একাউন্ট খুলেন তাহলে  $২৫(ডলার) বোনাস পাবেন আপনার প্রথম লেনদেন সম্পন্ন হবার পর। আপনি চাইলে এখনি নিচের লিংক এ গিয়ে সাইন আপ করে $২৫ বোনাস পেতে পারেন আপনার প্রথম উপার্জন এর পর ।

লিংক ঃ http://share.payoneer.com/nav/D1vWzv1R6mhifrlr9L7D5GlRKNLqFhdP3d7zWzLMCVHqgpppFSlQoj6kTfRtS0mHs4JLPJtKZuOsX8T3X5D0BA2

 

 

যার জন্যে এফিলিয়েট মারকেটিং করবেনঃ

অনলাইনের অনেক কোম্পানি রয়েছে যারা তাদের পন্য বা সেবা বিক্রির জন্য Affiliate Marketing করায় । যেহেতু বর্তমান সময়ে সবাই ডিজিটাল পন্য বা আয়ের উপায় খুজছে সেজন্য আমি রেফার করব ফাইবার এফিলিয়েট। কেননা এটা খুবই সহজ , অনেক লাভজনক্‌ , সবাই এখন অনলাইনে আয়ের জন্য ঝুকছে , এটা বিশ্বস্ত এবং আমি নিজেই এটা করছি। এছাড়া সহজেই এটাতে লোকজন প্রলুব্ধ হয় ও আয় অনেক বেশি। এছাড়াও ফাইভারের অনেক শিক্ষণীয় কোর্স , নতুন ফাইভার ইউজার, বায়ার সেলার কে জয়েন্ট করিয়ে ফাইভারের উপার্জন করিয়ে নিজেও উপার্জন করতে পারেন। প্রত্যেকটা অরডার $ ১৫-$১০০০ অব্দি উপার্জন করতে পারেন । এ ছাড়াও চাইলে আপনি বিশ্বজোড়া আরো লক্ষ লক্ষ কোম্পানি রয়েছে সেগুলার হয়ে কাজ করতে পারেন।

এফিলিয়েট মারকেটিং একাউন্ট যেভাবে খুলবেন ঃ

ফাইভার এফিলিয়েট একাউন্ট তৈরী করাও খুব ই সহজ । এখানে একটু সতর্কতার সাথে বলতে চাই একাউন্ট খোলার সময়  অবশ্যই নিজের ১০০% সঠিক তথ্য প্রদান করবেন। কারন যেকোন মুহূর্তে ভেরিফিকেশনের জন্য জাতীয় পরিচয় পত্র চাইতে পারে। এই একাউন্ট তৈরী করা পেয়োনিয়ারের থেকেও সহজ। । নিচে আমি ফাইভার এফিলিয়েট একাউন্ট সাইন আপ করার লিংক দিয়েছি । চাইলে লিংক এ গিয়ে সাইন আপ করতে পারেন।

https://fvrr.co/30h9EY5

যেভাবে Affiliate Marketing করবেন

এটার মারকেটিং করা খুব ই সহজ।  এটার জন্য আপনাকে অবশ্যই উক্ত পন্য বা সেবার প্রয়োজনীয়তা ও গুরুত্ব জানতে হবে। এর জন্য সামান্য করে সেই পন্য বা সেবার গুরুত্ব ও উপকারিতা লিখে এফিলিয়েট একাউন্ট থেকে প্রাপ্ত লিংক কপি পেস্ট করে  সেটাকে পোস্ট করতে হবে । কয়েকটি মাধ্যমে আপনার এফিলিয়েট একাউন্ট থেকে প্রাপ্ত লিংক  মারকেটিং এর জন্য আপনি বিভিন্ন ভাবে সেটার প্রয়োজনীয়তা উল্লেখ করে প্রমোট করতে পারেন আমার মত বিভিন্ন সোসাল মিডিয়ায় ।

যেমন-

১। ফেসবুক এ

২। টুইটার

৩। ইউটিউব

৪। ইন্সটাগ্রাম

৫। পিন্টারেস্ট

৬। গুগল সারচ ইঞ্জিন এ বিজ্ঞাপন

৭। ইয়াহু সারচ ইঞ্জিন এ বিজ্ঞাপন দিয়ে

ফেসবুক টুইটার ইনস্টাগ্রাম পিন্টারেস্ট এ অনেক অনেক গ্রুপ ও পেজ রয়েছে। সেখানে অসংখ্য সম্ভাব্য ক্রেতা থাকে যাদের ক্রয় করার সম্ভাবনা ও আগ্রহ থাকে। সেখানে আপনার লিংক ও সেটার বিস্তারিত বর্ণনা দিয়ে সাজিয়ে পোস্ট করলে ক্রেতা পেতে পারেন।

আমার বিশ্বাস এই পোস্ট এ আপনি এফিলিয়েট মারকেটিং এর মোট ৮০% জ্ঞান ধারন করেছেন । আপনার চেষ্টা থাকতে হবে ১০০% জ্ঞান অর্জন । কিছু জানতে ইউটিউবে সারচ করে খুজে দেখতে পারেন।

How to set google ads

How to set yahoo ads

How to earn more money by fiverr affiliates.

এই রকম ভিডিও দেখে দেখে সেভাবে নিজের লিংক গুলাকে প্রমোট করবেন। এভাবে একবার সেলস শুরু হলে সেটা চলতেই থাকবে। কারন আপনার লিংক গুলা ইন্টারনেটে থেকে গেল। আর যখন ই কেউ ক্লিক করে সেবা গ্রহন করবে তখন ই আপনার ও আয় হবে। আর এটা আজীবন পেতেই থাকবেন।

একবার সারমর্ম করি ঃ  বাংক একাউন্ট যোগ করতে হবে পেয়োনিয়ার এ> পেয়োনিয়ার যোগ করতে হবে ফাইভার এফিলিয়েট একাউন্ট এ > এফিলিয়েট একাউন্ট থেকে লিংক গুলাকে প্রমোট করতে হবে> সেল হলে $  চলে যাবে আপনার এফিলিয়েট একাউন্টে> এফিলিয়েট একাউন্ট থেকে উইথড্র দিলে $ যাবে আপনার পেয়নিয়ার একাউন্ট এ> পেয়নিয়ার থেকে উইথড্র দিলে টাকা চলে যাবে ২ কর্ম দিবসের মধ্যে আপনার ব্যাংক একাউন্টে।

পরিশেষে বলব এটার জন্য লাগবে আপনার ধৈর্য এবং লক্ষ স্থির রাখতে হবে। ইনশাআল্লাহ সফলতা আসবেই। 


 

Comments